spot_img

Football: The Most Beautiful Game.

বাস্কেটবল, বক্সিং, ক্রিকেট এরকম কিছু খেলা আছে যাদের দর্শক সংখ্যা যেমন অনেক তেমনি জনপ্রিয়তাও প্রচুর! তবে এমন একটি খেলা আছে যা, সবকিছুর ঊর্ধ্বে। হ্যাঁ, ফুটবল, ফুটবল এমন একটি খেলা যা সারা বিশ্ব জুড়ে শুধু পরিচিতই নয় এটার জন্য মানুষ উন্মাদ! ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকার মতোই আমাদের দেশের গ্রামে, শহরে সর্বত্রই এই খেলাটি খুব জনপ্রিয়। ফুটবল যে শুধুই একটি খেলা নয় তার থেকে বেশিকিছু তার প্রমাণ গভীর রজনীতে দেশের অধিকাংশ ছেলেদের টিভিসেটের সামনে বসে থাকাটা!

জনপ্রিয় দুই দল ব্রাজিল-আর্জেন্টিার জার্সিতে লোকাল ম্যাচ
জনপ্রিয় দুই দল ব্রাজিল-আর্জেন্টিার জার্সিতে লোকাল ম্যাচ ছবি: ফুটবল জগৎ
- Advertisement -

বলা হয়ে থাকে যে, স্প্যানিশদের ধর্ম দুটি। একটি **, আরেকটি ফুটবল। স্পেনের মানুষ ফুটবলের জন্য কতোটা পাগল তা আপনি স্পেনে না গেলে আচ করতে পারবেন না! আপনি স্পেনে ছেড়ে এবার বাংলাদেশেই দেখুন; শতশত স্পোর্টস গ্রুপের সাথে গেটটুগেদার, প্রিয় খেলোয়াড়দের বার্থডে উদযাপন, জার্সি কিনার ধুমধাম ইত্যাদি ইত্যাদি।

“You don’t need a ball or stadium to play this game, you just need passion!”

ফুটবল খেলার জন্মটা হয়েছিলো আজ থেকে ১৪৮ বছর পূর্বে, যুক্তরাজ্যর গ্লাসগোতে! সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলো ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। সেই ম্যাচের ফলাফল ছিলো গোলশূন্য ড্র! সেই শুরু, তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ফুটবলকে। সময়ের সাথেসাথে সব স্পোর্টস ইভেন্টকে ধাক্কা দিয়ে নিজ ইভেন্ট আজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ধারেকাছে নেই আর কেউই।

১৯৩০ সালে শুরু হয় বর্তমানে “The biggest show on the earth” খ্যাত “World Cup football.” প্রতি চারবছর পরপর হওয়া এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের চাহিদা আজ আকাশচুম্বী। শুধু বিশ্বকাপই বা কেনো ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লীগ, উয়েফার টুর্নামেন্টগুলোও কম কিসে।

ফুটবলের আরেক সৌন্দর্য্য
ফুটবলের আরেক সৌন্দর্য্য, ছবি: ফুটবল জগৎ

২১ মে ১৯০৪ সালে বিশ্ব ফুটবলের অবিভাবক হিসেবে ঘোষণা করা হয় ‘FIFA : Football International Federation De Association’ এর নাম। এরপর বিভিন্ন মহাদেশের ফুটবল লীগ ও দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য গঠন করা হয় কিছু সংগঠন। ১৫ জুন ১৯৫৪ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোদের জন্য উয়েফা, ৩১ জানুয়ারি ১৯৮৪ সালে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এএফএফ, ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৬১ সালে নর্থ সেন্ট্রাল আমেরিকান ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য কনকাকাফ, ১৯৫৭ সালে আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য কাফ, ৯ জুলাই ১৯১৬ সালে ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্য কনমেবল গঠন করা হয়।

“After all, everyone remember the winner and the beginner. There’s no room for loser!”

ভয়ংকর সত্যি উপরের বাক্যটিকে মেনে আসুন একনজরে জেনে নেই ফুটবলের আন্তর্জাতিক ও আন্তর্জাতিক ছাড়াও বড় ফুটবল আসরগুলোর জন্মসাল, চ্যাম্পিয়ন ও আয়োজকের নামঃ

১. ১৯৩০ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া ফিফা বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে, আয়োজক ছিলো উরুগুয়ে।

২. ১৯৬০ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া ইউরোর চ্যাম্পিয়ন হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন, আয়োজক ছিলো ফ্রান্স।

৩. ১৯৫৭ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া আফ্রিকান কাপ অফ নেশন্স লীগের চ্যাম্পিয়ন হয় মিশর, আয়োজক ছিলো সুদান।

৪. ১৯১৬ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া কোপা আমেরিকার অভিষেক আসরে শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা, আয়োজকও ছিলো আর্জেন্টিনা।

৫. ১৯৫৬ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া এএফসি এশিয়ান কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় দক্ষিণ কোরিয়া, আয়োজক দেশ ছিলো হংকং।

৬. ১৯৬১ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া কনকাকাফ গোল্ড কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় ইউএসএ, আয়োজকও ছিলো তারা।

৭. ১৯৯২ সালে কিং ফাহাদ কাপ নামে প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া ফিফা কনফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা, আয়োজক ছিলো সৌদি আরব।

৮. ২০১৯ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া উয়েফা নেশন্স লীগের চ্যাম্পিয়ন হয় পর্তুগাল, লীগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল হয়েছিলো পর্তুগালে।

৯. বর্তমান উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ ও পূর্বের ইউরোপিয়ান কাপের এর অভিষেক হয় ১৯৫৬ সালে। অভিষেক আসরে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলো স্পেনের অন্যতম সফল ক্লাবদের একটি রিয়াল মাদ্রিদ।

১০. ১৯৭১ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হওয়া উয়েফা কাপ, বর্তমান ইউরোপা লীগের প্রথম আসরের শিরোপা জিতে ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম।

১১. ২০০০ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ফিফা ক্লাব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, বর্তমান ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। অভিষেক আসরে শিরোপা জিতে ব্রাজিলের ক্লাব করিন্থিয়াস।

১২. উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ ও ইউরোপা লীগের শিরোপা জয়ী দুই ক্লাবের মধ্যে ১৯৭২ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উয়েফা সুপার কাপ। প্রথম আসরে শিরোপা জিতেছিলো ডাচ ক্লাব আয়াক্স।

“Quitters never win and the winner never quit!”

আসুন, এখন জেনে নেই ফুটবল টুকিটাকিঃ

ফুটবল ইতিহাসে খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন পিটার শিল্টন (১৩৯০)।

ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা জোসেফ বাইকান (৮০৫) ও সর্বকালের সর্বোচ্চ অ্যাসিষ্টদাতা বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন জাদুকর লিও মেসি (২৩৪*)।

ফুটবল ইতিহাসে গোল রেশিও সবচেয়ে বেশি জোসেফ বাইকানের (১.৫১)!!

ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ হ্যাট্ট্রিক করেছেন পেলে (৯২)।

ফুটবল ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল করেছেন আর্চি থমসন (১৩)!

ফুটবল ইতিহাসে (দল/ক্লাব) সবচেয়ে বড় জয় অস্ট্রেলিয়ার দখলে, তারা ৩১-০ গোলে আমেরিকান সামোয়াকে হারিয়েছিলো!

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম হ্যাট্ট্রিকের মালিক জেমস হাইটার (২ মিনিট ৩০সেকেন্ড)।

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশিবার ইনজুরিতে পড়েছেন জ্যাক রডওয়েল!

ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড দেখেছে সার্জিও রামোস ও লাল কার্ড দেখেছেন জেরার্ডো আলবার্তো বিদয়া (৪৬)।

ফুটবল ইতিহাসে কখনও হলুদ বা লাল কার্ড দেখেননি লিনেকার!!!!

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী দল ব্রাজিল।

ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে মিশরের ক্লাব আল-আহলি (১১৮টি)।

ফুটবল ইতিহাসে খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছেন ব্রাজিলিয়ান রাইট ব্যাক দানি আলভেস (৪১*টি)।

টিভিতে আজকের খেলা কার, কখন দেখতে

লেখাটি শেয়ার করুন

spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Related articles

আরো খবর

বিজ্ঞাপনspot_img

LATEST ARTICLES

2,875FansLike
8FollowersFollow
968FollowersFollow
81SubscribersSubscribe
Tanim Rahman Zulki
Tanim Rahman Zulkihttps://footcricinfo.com
Still a student. I like sports that's why I'm here.