spot_img

সার্জিও বুসকেটস: একজন সাইলেন্ট কিলার

- Advertisement -

আচ্ছা একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলতে সাধারণত আমরা কি বুঝি? নিশ্চয়ই শরীরে অনেক শক্তি থাকবে , সে রোবটের মতো পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়াবে, ক্ষনে ক্ষনে ট্যাকেল করে প্রতিপক্ষের আক্রমণ বাতিল করবে, তাই না?

হুম আপনি এসব ভাবলে ভুল করবেন না, আসলেই একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এর কাছ থেকে আমরা এইটুকুই আশা করি সবসময়। তারা সবসময়ই দুই সেন্টার ব্যাক এর মাঝামাঝিতে একটু উপরে অবস্থান করে লিংক তৈরী করে দুই ফুল ব্যাক, দুই সেন্টার ব্যাক,এবং অন্য দুই সেন্টার মিডফিল্ডার এর সাথে অর্থাৎ পুরো খেলার কন্টোলারই বলা চলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে। তাদের কাজ যতটা না সৃষ্টি করা তারচেয়ে ঢের বেশি ধ্বংস করা। প্রতিপক্ষের আক্রামণ ধ্বংস করাই থাকে তাদের প্রধান লক্ষ্য। তাই বরাবরই তারা ফুটবলে ভিলেন হিসেবেই পরিচিত।

আরো পড়ুন- বিশ্বের ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিমের তালিকায় চাইনিজ ফুটবলার হুই লেই

আধুনিক ঘরনার ফুটবলে ছোট হোক মাঝারি কিংবা বড় দলই হোক না কেন প্রতিটি দলেই একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নিয়ে একাদশ সাজায়। তাদের (দলগুলোর) সাফল্যের প্রায় অনেকাংশ নির্ভর করে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এর পারফর্ম এর উপর। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড রাজ্যের সাম্রাজ্য আন্দ্রে পিরলো, লুথার ম্যাথিউজ, পেপ গার্দিওয়ালা, ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড, ইয়াইয়া তোরে, জাভিয়ের মাশ্চেরানো, জাভি আলানসো থেকে শুরু করে এখনকার হালের কাসেমিরো, এনগলো কন্তে, ফার্নানদিনহো, ফাবিনহো, কিমিচদের নাম না বললেই নয়। প্রতিটি দলেরই মূল ইন্জিন থাকে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডাররা। ঠিক তেমনি বার্সেলোনা দলের ও একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার রয়েছে, যে কি না সাইলেন্ট কিলার এর মতো গত এক দশক ধরে বার্সাকে সার্ভিস দিয়ে আসছে বিরামহীন ভাবে।

এতক্ষণে হয়তো আচ করতে পেরেছেন আমি কার সম্পর্কে লেখার উদ্দেশ্য কিবোর্ড এর সামনে বসেছি। হ্যা আমি বার্সার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এমনকি এই শতাব্দীর সেরা কিংবা তর্কসাপেক্ষ সর্বকালের সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেট এর কথা বলতেছি। তাকে আপনি মাঠে না কন্তের মতো দৌড়াতে দেখবেন কিংবা না মাদ্রিদের কাসেমিরোর মতো ঘন ঘন ট্যাকেল ও করতে দেখবেন। তার নিজস্ব আলাদা একটা ফিলোসোফি আছে, অর্থ্যাৎ গেম রিডিং, পজিশনাল সেন্স, বলের উপর নিয়ত্রন যা অনেকটা আন্দ্রে পিরলো, ম্যাথিউজের মতো। যার কারনে ২০০৮-০৯ সীজনে ঐ সময়ের টপ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ইয়াইয়া তোরে কে বেঞ্চে বসতে বাধ্য হয়েছিল পেপ। এইজন্যই তাকে অন্যান্য ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের কাছ থেকে আলাদা করেছে।

আরো পড়ুন- মেসি ফুটবলের সৌন্দর্য

স্পেনের সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী কোচ ভিনস্টে দেল বস্ক তাকে নিয়ে একটা মন্তব্য করেছিল, মন্তব্যটা এমন ছিল যে, ” আপনি যদি বার্সার খেলা দেখতে চান তখন আপনি বুসকেটকে দেখতে পাবেন না কিন্তু আপনি যদি শুধু বুসকেটকে দেখতে থাকেন তাহলে পুরো বার্সাকেই বুঝতে পারবেন” এই বিখ্যাত কথাটার মধ্যেই বুঝা যায় বুসকেট এর সামর্থ্য কোথায়, কেন সে অন্য সবার থেকে এক ধাপ এগিয়ে। যেখানে একটা ডিএম গড়ে প্রতি ম্যাচে ট্যাকেলের হার থাকে ৫ এর বেশি সেখানে কি না বুসকেট এর থাকে ২ এর কিছুটা বেশি। বার্সার এই শতাব্দীর সাফল্যের পেছনে যতটা জাভি ইনিয়েস্তার অবদান, ঠিক ততটাই অবদান বুসকেট এর। কিন্তু ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেই সে সম্ভবত এতটা লাইম লাইটে আসে না। কেননা সে যে ভুরি ভুরি এসিস্ট কিংবা গোল করতে পারে না। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো যে তার কাজটাই যে ধ্বংস করা,বিনষ্ট করা,আর মানুষ স্বভাবতই ধ্বংস/বিনষ্ট করা পছন্দ করে না।

 

স্পেনের জার্সিতে বুসকেটস
                     স্পেনের জার্সিতে বুসকেটস

গত এক দশক ধরেই বুসকেট বার্সাকে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে আসছে। তাকে অনেকটা বৃক্ষের সাথে তুলনা করলেও ভুল হবে না। কিন্তু ইদানীং তার সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তার এরকম স্লো প্লেয়িং স্টাইল অনেকরই নাকি ভালো লাগে না । অবশ্য যারা নব্য বার্সা ফ্যান অর্থাৎ ২০১৬ এর পর, তারা অবশ্য বুসকেট এর মর্ম বুঝবে না, তাদের কাছে বুসকেট কে বোরিং লাগবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা তারা যে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলতে দেখে এসেছে রোবটের মতো দৌড়ানো এনগলো কন্তেকে কিংবা ট্যাকেল ম্যান কাসেমিরো কে। তারা কন্তে, কাসেমিরো, এরকম গতিময় ডিফেন্সিভ মিডিদের দেখে স্লো ম্যান বুসকেট কে বোরিং লাগবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা এটা জানে না যে বুসকেট স্লো ভাবেই নিরবে তার কাজটা সেড়ে ফেলে, তার ঘন ঘন ট্যাকেল এর দরকার হয় না কিংবা রোবটের মতো দৌড়ানোর প্রয়োজন পড়ে না। সে খেলেই মাইন্ড গেম ,যেমনটা খেলতো বারেসিও, মালদিনিরা একেবারে নীরবে। এইজন্যই তাকে বলা হয় “দ্য সাইলেন্ট কিলার” অর্থাৎ সে প্রতিপক্ষের আক্রমণ নীরবে ধ্বংস করে থাকে, যেটা আমরা খালি চোখে আচ করতেই পারি না।

আরো পড়ুন- তিনি প্লাতিনি- দশ নম্বর জার্সির অন্যতম সমার্থক।

বুসকেট এর সময় ততটা ফুরিয়ে যায় নি যতটা আমরা ভাবছি, হয়তো মাঝে কিছুটা বাজে সময় গিয়েছে, কিন্তু পরে ঠিকই সে ব্যাক করেছে। আমি নিশ্চিত সে আরও দুই সীজন বার্সায় থাকবে।তবে বুসকেট এর একটা দূর্বলতা ও রয়েছে, সেটা হলো সে ডাবল পিভটে কমফোর্ট করে না, কিন্তু মজার ব্যাপার এই ডাবল পিভটে খেলেই সে জাভি আলানসোর সাথে মিলেই ২০১০ বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেনের হয়ে । বুসকেট হলো বার্সা এবং স্পেনের একজন জীবন্ত কিংবদন্তি। স্পেন এবং বার্সার সাফল্যের পেছনে তার অবদান কখনোই ভোলার নয়।

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের কেউ কখনো মনে রাখে না। কেননা আমরা যখন পরিসংখ্যান খুজতে যাই তখন তাদেরকে কোথাও খুজে পাই না, কেননা তাদের কাজটাই যে পরিসংখ্যানের নয়। তাই স্বভাবতই ইতিহাসে তাদের নাম মনে রাখে না বললেই চলে। তাছাড়া ফুটবল যদি একটা সিনেমা হয়ে থাকে সেখানে খল নায়ক কিংবা ভিলেনের চরিত্রটা কিন্তু ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারাই। তারা যতটা না সৃষ্টি করে তারচেয়ে বেশি ধ্বংস করে থাকে। কিন্তু তাদের এই ধ্বংস করাটাই নিজ নিজ দলের জন্য হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়। বুসকেট কিংবা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারদের নিয়ে কখনো লিখে শেষ করা যাবে না। আজকে তর্কসাপেক্ষ সর্বকালের সেরা এবং বার্সার ইতিহাসে সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেট এর ৩২ তম জন্মদিন। সময় ফুরিয়ে আসছে, বুটজোড়া তোলার সময় খুবই সন্নিকটে, বাকি দিনগুলোর জন্য রইলো শুভকামনা ‘দ্য সাইলেন্ট কিলার’।

আজকের খেলার সময়সূচি দেখতে ক্লিক করুন

লেখাটি শেয়ার করুন

spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Related articles

[td_block_9 sort=”alphabetical_order” category_id=”” custom_title=”আরো খবর” limit=”6″ td_ajax_filter_type=”td_popularity_filter_fa”]
বিজ্ঞাপনspot_img

LATEST ARTICLES

2,875FansLike
8FollowersFollow
879FollowersFollow
80SubscribersSubscribe
Sanjidul Islam Sabbirhttps://footcricinfo.com
I am a content writer. I love sports. That's why I am here.