spot_img

“বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের দুই দুঃখী রাজপুত্র!”

- Advertisement -

বলা হয়ে থাকে ফুটবল গোলের খেলা! গোলই সবকিছু। যদিও গোল ফলাফল এনে দেয়, তবুও অনেকেই গোল সবকিছু মানতে নারাজ! গোলের কথা আসতে মনেহলো, যদি আপনাকে বলা হয় সর্বকালের সর্বোচ্চ দশ গোলদাতাদের নাম বলতে। তখন নিঃসন্দেহে সবার প্রথমেই চলে আসবে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কালো মানিক খ্যাত পেলের কথা কিংবা বাইকানের কথা। আসবেই না কেনো? মুড়ি মুড়কির মতো গোল করে গেছেন এই কিংবদন্তি। সেরা দশের তালিকায় আরো দুটি নাম যেগুলোর কথা বলতে একটুও ভাবতে হবে না, ফুটবল বিশ্বের ১০০ শতাংশ ভক্তরাই বলে দেবে যে নামগুলো। বলবেই বা না কেনো? দীর্ঘ সময় ধরে ফুটবলকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা এই দুই নক্ষত্র নিজেদের নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।

১৪ অক্টোবর ২০০২ সালে স্বদেশী ক্লাব স্পোর্টিং সিপির জার্সি গায়ে দেওয়ার সাথেসাথে শুরু হয়েছিলো এক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক যাত্রা এবং ২০০৪ সালের অক্টোবরে লা-মাসিয়ার বিস্ময় বালকের বার্সা মূল দলের জার্সি গায়ে চাপানোর সাথে সাথে শুরু হয়েছিলো আরেক কিংবদন্তির ঐতিহাসিক যাত্রা! তখনও হয়তো কেউ আচ করতে পারে নি যে, একটা সময় আসবে যখন ফুটবলের সবকিছুই ওদের দখলে চলে যাবে। ৭ অক্টোবর ২০০২ সালে স্পোটিং লিবসনের জার্সিতে ও ১ মে ২০০৫ সালে বার্সার জার্সিতে নিজ নিজ অভিষেক গোলটা করেন বর্তমান ফুটবলের দুই দিকপাল।

তারপর দেখতে দেখতে আজ দুজনেরই নামের পাশে ৭০০ এর অধিক গোল! এতক্ষণে হয়তো আপনিও বুঝে গেছেন কোন দুই নক্ষত্রের কথা বলা হচ্ছে। হ্যাঁ আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, আমি বলছি ফুটবল খেলাটা যাদের কাছে ঋণী সেই লিও মেসি ও ক্রিশ্চিয়ান রোনাল্ডোর কথা। ২০০৮ সালে রোনাল্ডোর ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়ের মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিলো মেসি-রন গোল্ডেন শু যুগের! তারপর থেকে ইউরোপীয় লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতার এই পুরষ্কারটিকে নিজেদের সম্পত্তিতে পরিণত করে ফেলা এই দুই কিংবদন্তির নামের পাশে আছে অসংখ্য অগণিত পুরষ্কার।

ব্যালন ডি’অর, দ্যা বেষ্ট, একটিভ খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ হ্যাট্টিক ও একটিভ খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্ভাব্য সব রেকর্ড, এককথায় অসংখ্য অগণিত রেকর্ডের মালিক এই দুই তারাকাকেও একটা হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলতে হয়!! বলা হয়ে থাকে যে, জীবনে সবকিছু পূর্ণতা পায় না! পূর্ণতা পেলে নাকি জীবনের আসল স্বাদ থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়, একঘেয়েমি লাগে! ঠিক তেমনি এক অপূর্ণতা আছে ফুটবলের এই দুই কিংবদন্তিদের!

মেসি রোনালদোর সম্পূর্ণ পরিসংখ্যান দেখতে

ইতালির নেপোলিতে তারা যে দুটি জিনিসকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে ও ভালোবাসে তাদের একটি হলো ক্যারিয়ারে একটি বিশ্বকাপ জেতা আর্জেন্টাইন গ্রেট ম্যারাডোনা! ডিয়েগো ম্যারাডোনা হলেন বার্সার ইতিহাসের সেই তিনজন খেলোয়াড়দের একজন যাকে দাড়িয়ে সম্মান জানিয়েছিলো সান্তিয়াগো বার্ণ্যাবুর দর্শকরা! সেই ম্যারাডোনার জীবনেও রয়েছিলো অপূর্নতা আর তাহলো, ক্যারিয়ারে কখনোই ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতার কোন ট্রফি জেতা হয় নি তার! ঠিক তেমনি ব্রাজিলকে তিন তিনটি বিশ্বকাপ এনে দেওয়া কিংবদন্তি পেলে কখনও ইউরোপে খেলেন নি বিধায় তার নামটিও নেই!

তেমনি অনেক খেলোয়াড়েরই জীবনে রয়েছে একটি না একটি অপূর্ণতা! একজন খেলোয়াড় হিসেবে সম্ভাব্য সব শিরোপা জয়ীদের তালিকায় যেমন ফার্নান্ডো টরেস, বার্সা কিংবদন্তি ইনিয়েস্তা, পুওল, মাদ্রিদ কাপ্তান রামোস, পিকেদের নাম আছে, সেই তালিকায় নেই বর্তমান সময়ের ও সর্বকালের সেরাদের দুইজন লিও মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম! বিশ্ব আসরে ১ গোল করে, সাইডব্রেঞ্চে বসেও অনেকের নামের পাশে যেখানে আছে একটি সোনালি ট্রফি সেখানে মুড়িমুড়কির মতো গোল, ব্যক্তিগত পুরুষ্কার, রেকর্ড, শিরোপা সবকিছুই থাকলেও ক্যারিয়ারে কখনোই বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু দেওয়ার সৌভাগ্য হয় নি তাদের! ফুটবল খেলাটা যাদের কাছে ঋণী, সেই তাদেরই নামের পাশে নাকি নেই সোনালি ট্রফিটি! এজন্যই হয়তো বলা হয় যে, Behind every happiest person there is a saddest story! And the story is be sorry for only single things to his whole life!

টিভিতে আজকের খেলা কার, কখন দেখতে

জীবন এমনই। মাঝেমধ্যে আপনাকে হাসাবে, তো অবশ্যই অবশ্যই কাঁদাবে। জীবন চলে তার আপন গতিতে। আপনার আমার হাতে কিছুই নেই, আমরা শুধু যা করতে পারি তা হলো চেষ্টা। হয়তো শেষ চেষ্টাটা আসছে কাতার বিশ্বকাপে করে দেখতে পারবেন দুইজন? কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো তখন কি সায় দেবে শরীর? বিশ্বস্ত পা-দুটো বল নিয়ে দৌড়াতে চাইবে তো? মেটাতে পারবে তৃষিত নয়নের তৃষ্ণা? এতো এতো প্রশ্নের ভিড়েও আমরা হয়তো ফুটবলের সবচেয়ে ভাগ্যবান প্রজন্ম, যারা স্বচক্ষে দেখতে পেরেছি ফুটবলের দুই মহান নক্ষত্রকে, দেখতে পেরেছি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুই গ্রেটকে। সময় ঘনিয়ে আসছে। কে সেরা সেই প্রশ্নের উত্তরের চেয়ে একসাথে চোখ ভেজানোর সময় হয়তো খুব নিকটে! নিজেকে ধরে রাখতে পারবেন তো? তবুও সোনালি ট্রফিটা একটা হাহাকার হিসেবে থেকেই গেলো!! ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপে বিশ্বসেরারা ঝলক দেখাবেন এটাই স্বাভাবিক কিন্তু হতাশাকে সঙ্গী করে একরাশ হাহাকার নিয়েই এখান থেকে বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।

লেখাটি শেয়ার করুন

spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Related articles

আরো খবর

বিজ্ঞাপনspot_img

LATEST ARTICLES

2,875FansLike
8FollowersFollow
940FollowersFollow
81SubscribersSubscribe
Tanim Rahman Zulki
Tanim Rahman Zulkihttps://footcricinfo.com
Still a student. I like sports that's why I'm here.