spot_img

শুভ জন্মদিন মিচেল ম্যাকক্ল্যানাঘেন

আইপিএল ২০১৫-র চার রাউন্ডের খেলা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে আর পয়েন্ট তালিকাতেও কম-বেশি ওঠানামা চলছে প্রায় সব দলগুলোর মধ্যেই। ব্যতিক্রম শুধু মুম্বাই  ইন্ডিয়ান্স, যারা চার ম্যাচ পরেও যেখানে শুরু করেছিল সেখানেই রয়েছে, অর্থাৎ লিগ টেবিলের সর্বনিম্ন স্থানে।

ব্যাটিং তাদের খুব খারাপ না হলেও বোলিং হচ্ছে একেবারে ক্লাব স্তরের। মালিঙ্গার চোখে-মুখে আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট, বুমরাহ’র মধ্যে তখনও অবধি আজকের বুমরাহ হয়ে ওঠার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি, সাপোর্ট বোলারদের ব্যর্থতায় হরভজন অসহায় আর বাকিদের অবস্থা এতটাই তথৈবচ যে শেষ ম্যাচে ওয়াংখেড়েতে ১৮৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যানরা অর্জন করেছে ২০ বল বাকি থাকতেই! তৃতীয় ম্যাচেই চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছেন অ্যারন ফিঞ্চ আর এবার গোঁদের ওপর বিষফোড়ার মতো আঘাতপ্রাপ্ত কোরি অ্যান্ডারসনও বাড়ির পথে।
মুম্বাই এর পরবর্তী প্রতিপক্ষ চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। এই পরিস্থিতিতে অ্যান্ডারসনের জায়গায় দলে এলেন তারই দেশের বাঁ-হাতি পেসার মিচেল ম্যাকক্ল্যানাঘেন, যাকে বোলিং কোচ শ্যেন বন্ডের পরামর্শে সেবারের নিলামে কার্যত পানির দরে কিনেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। অদ্ভুতভাবে তিনিও এলেন, আর সেইসঙ্গে এলো মুম্বাই এর  প্রথম জয়ও।
অবশ্য সেই ম্যাচের আগে বোধ হয় মুম্বাই এর ব্যাটসম্যানরা  শপথ নিয়ে নেমেছিলেন যে দলের বোলিংয়ের দিকে না তাকিয়ে বেঙ্গালুরুর পাটা উইকেটে জয়ের সমস্ত দায়িত্ব নিজেরাই নেবেন, আর বাস্তবেও তাই হল। রোহিত শর্মার দলের করা ২০৯ রানের জবাবে ১৯১ এ থেমে গেল কোহলির আর সি বি। নিজের চার ওভারে ম্যাকক্ল্যানাঘেন ৪৩ রান খরচ করলেও সেই কাজটিই করলেন যেটা তিনি তারপর থেকে মুম্বাই  ইন্ডিয়ান্সের জার্সি গায়ে আরও অনেকবার করেছেন, আইপিএল কেরিয়ারে নিজের প্রথম শিকার হিসাবে সেদিন তিনি তুলে নেন বিরাট কোহলির উইকেট।
এরপর থেকে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই নতুন বলে আগুনে স্পেল করতে থাকেন তিনি। তুলতে থাকেন নিয়মিত ব্যবধানে উইকেটও। এতে যে শুধু মুম্বাই  ইন্ডিয়ান্সের নিস্তেজ আক্রমণে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয় তাই নয়, মালিঙ্গাও নিজের বোলিংয়ে ফিরে পান কাঙ্খিত ভেদশক্তি। আর ক্রমশই বিপক্ষের ত্রাস হয়ে উঠতে থাকা মালিঙ্গা-ম্যাকক্ল্যানাঘেনের এই জুটির ওপর ভর করেই মেন ইন ব্লু রা জিততে থাকে একটার পর একটা ম্যাচ।
ম্যাকক্ল্যানাঘেনের ইকোনমি রেট ওপরের দিকে থাকলেও শুরু থেকেই তার “গো ফর দ্য কিল” বোলিং আর উইকেট তোলার সুবাদে ফার্স্ট চেঞ্জ হিসাবে আসা বিনয় কুমার বা মাঝের ওভারে বল করা অনভিজ্ঞ জগদীশ সূচিতরা অপেক্ষাকৃত ডিফেন্সিভ বোলিং করার সুযোগ পান। মাঝের একটা বা দুটো ম্যাচ খারাপ গেলেও ধারাবাহিকভাবে দুরন্ত পারফর্ম করেন এই কিউয়ি বোলার, আর সর্বোপরি নিজের সেরা দুটো পারফরম্যান্স তুলে রাখেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটো ম্যাচের জন্য। রাউন্ড রবিন লিগের শেষ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং ফাইনালে ইডেন গার্ডেন্সে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে তার যথাক্রমে ১৬ এবং ২৫ রান দিয়ে তিনটি করে উইকেট দ্বিতীয়বারের জন্য মুম্বাই এর  চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ প্রশস্ত করে দেয়।
ম্যাকক্ল্যানাঘেনকে বাইরে রেখে টানা চারটি ম্যাচে হার দিয়ে শুরু করা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ম্যাকক্ল্যানাঘেনের অন্তর্ভুক্তির পরবর্তী ১২টি ম্যাচের মধ্যে ১০টি ম্যাচেই জয়লাভ করে, আর ম্যাকক্ল্যানাঘেন নিজে টুর্নামেন্টে মোট ১৮টি উইকেট সংগ্রহ করেন যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল এককথায় প্রাইসলেস।  প্লেয়ার থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ অবধি আদ্যোপান্ত তারকা ঠাসা একটা দলে একজন অপেক্ষাকৃত অনামী খেলোয়াড় হয়েও তোমার সেবারের টুর্নামেন্ট ডিফাইনিং পারফরম্যান্স আজীবন মনে থাকবে।
Happy birthday one of the most underrated player of the kiwi team and one of the most successful bowler for Mumbai Indians. ALSO, the fastest player to get 50wk in ODI for kiwi

লেখাটি শেয়ার করুন

spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Related articles

আরো খবর

বিজ্ঞাপনspot_img

LATEST ARTICLES

2,875FansLike
8FollowersFollow
967FollowersFollow
81SubscribersSubscribe