spot_img

সর্বকালের সেরা পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ।

- Advertisement -

বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে গড়িয়ে চলেছে ১৯৯৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। ক্রিজে তখনও আছেন জাভেদ মিঁয়াদাদ। হ্যাঁ, সেই জাভেদ মিঁয়াদাদ যিনি নিজের পুরো কেরিয়ারে একটা কাজ খুব ভালোভাবেই করে এসেছেন, বোলারের ডেলিভারিতে হয়তো তেমন কোনো ভুলই নেই — না বলটা কাট করার মতো ওয়াইড, না পুল করার মতো শর্ট, না ফুল লেংথের আর না খুব স্ট্রেট; কিন্তু তবুও মিঁয়াদাদের কব্জির মোচরে বেরিয়ে আসা ফ্লিক বা লেগ গ্লান্সগুলো ঠিকই স্কোয়ার লেগ বা শর্ট ফাইন লেগের ফিল্ডারকে পরাস্ত করে বাউন্ডারিতে পৌঁছে যেতো।

কিন্তু এই ম্যাচের ব্যাপারটা যেন অনেকটাই আলাদা। এতকাল বিশ্বের তাবড় তাবড় বোলারদের সদর্পে সামলে আসা মিঁয়াদাদ এখন শচীন তেন্ডুলকার বা অজয় জাদেজার বলগুলোকে আর গ্যাপে ঠেলতে পারছেন না, কভার ড্রাইভগুলো চলে যাচ্ছে এক্সট্রা কভার ফিল্ডারের হাতে, লেট কাটগুলো ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট বা শর্ট থার্ড ম্যানকে আগের মতো দর্শক বানাতে পারছে না।

আজকের খেলা কখন, কোন চ্যানেলে দেখতে ক্লিক

তার ব্যাটিংয়ের সবগুলো হলমার্ক অবশ্য দেখা যাচ্ছে তখনও; প্রত্যেকটা সিঙ্গেল নিতেও কব্জির ব্যবহার, ইনিংসের শুরুতে রিস্ক ফ্রি ক্রিকেট, জরুরি রান রেট উর্ধ্বমুখী হলেও প্যানিক না করা — পার্থক্য শুধু এটাই যে বল আর আগের মতো তার আদেশ মানছে না। হাফ-ভলিতে আর বাউন্ডারি হচ্ছে না, লেগ স্টাম্পের বলগুলোতে ব্যাট পেরিয়ে লেগে যাচ্ছে প্যাডে আর স্কোরবোর্ড বলছে তার রান ৩৫ বলে ১০।

পঞ্চাশেরও বেশি বল খেলে ফেলার পর মিঁয়াদাদ যখন নিজের প্রথম চার মারলেন, তার হাবেভাবে দেখে বোঝারই উপায় নেই যে তার স্ট্রাইক রেট তখন সবে পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই আর আস্কিং রেট নয়েরও বেশি। সুনীল গাভাসকার, ইয়ান চ্যাপেল বা রিচি বেনৌরা ততক্ষণে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছেন যে যার খেলা তারা দেখছেন তিনি আগের জাভেদ মিঁয়াদাদের ছায়া মাত্র। প্রায় প্রত্যেকটা শটের পরই ফর্মের শীর্ষে থাকা জাভেদ মিঁয়াদাদ ঠিক কোন শটটা খেলতেন সেটা নিয়েই বারবার আলোচনা হচ্ছে তাদের মধ্যে। ইমরান খান হয়তো তার মধ্যেই বলে দিচ্ছেন যে দশ বছর আগে এই ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখতেন পাকিস্তানের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান, যার অর্থ সাম্প্রতিক ফর্মের মিঁয়াদাদের পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়।

যদিও স্টেডিয়ামে উপস্থিত ভারতীয়দের মনে তখনও অবধি দুশ্চিন্তার কালো মেঘ, তারা তখনও এতটাও নিশ্চিত নন যে ম্যাচটা ভারতই জিতবে। কারণ ঠিক দশ বছর আগে আসমুদ্র হিমাচলজুড়ে সমর্থকরা জয় নিশ্চিত ভেবে যে ভুলটা করেছিলেন, চেতন শর্মাকে ম্যাচের শেষ বলে ডিপ স্কোয়ার লেগের ওপর দিয়ে উড়িয়ে সেই ভাবনার মূলে করা মিঁয়াদাদের চরমতম কুঠারাঘাতের ক্ষত তখনও তাদের হৃদয়ে দগদগ করছে। ওই একটা ছক্কা শুধু পাকিস্তানকে -এশিয়া কাপই জেতায়নি, চিরতরের জন্য তৈরি করে দিয়েছিল ভারত-পাক রাইভালরির প্রেক্ষাপট।

টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাস এর উনি দ্বিতীয় খেলোয়াড় যার ব্যাটিং গড় কখনো ৫০ এর নিচে নামেনি‌ ( অন্যজন ইংল্যান্ড এর হারবার্ট সুটক্লিফ)‌। পাকিস্তান এর হয়ে ১২৪ টেস্ট এ ৮৮৩২ রান করেন গড় ৫২.৫৭। আর একদিন এর ক্রিকেট এ করেন ২৩১ ম্যাচ e ৭৩৮১ রান গড় ৪১.৪৭। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এ করেন ২৮০০০ এর বেশি রান ৫১+ গড় এ। উনি ওনার প্রথম জীবনে নিয়মিত লেগ স্পিন বোলিং ও করতেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট এ ১৯১ উইকেট ও আছে। যদিও পরবর্তীকালে সেভাবে আর দেশ এর জার্সি তে বোলিং করেন নি। ওনার প্রথম টেস্ট উইকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর লিজেন্ডারি ব্যাটসম্যান ক্লাইভ লয়েড। কনিষ্ঠতম ব্যাটসম্যান হিসাবে মাত্র ১৯ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক ২০০ রান করেন ওনার ডেবিউ সিরিজ এ। ( তাঁর আগে এই রেকর্ড ছিল ওয়েষ্ট ইন্ডিজ এর জর্জ হ্যাডলি এর ২০ বছর বয়সে)।

লেখাটি শেয়ার করুন

spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Related articles

আরো খবর

বিজ্ঞাপনspot_img

LATEST ARTICLES

2,875FansLike
8FollowersFollow
967FollowersFollow
81SubscribersSubscribe